Source - anandabazar
বাড়তি ভাড়ার যে-দাবি বেসরকারি বাস সংগঠন জানিয়েছিল, তার ফয়সালা হয়নি। তাই করোনার রক্তচক্ষুতে লকডাউনের দরুন বন্ধ হয়ে যাওয়া বেসরকারি বাস এখনই ফের চালু হচ্ছে না। সরকার কোনও নির্দেশিকা না-দেওয়ায় রাস্তায় নামছে না অটোরিকশাও। ফলে বাংলার আমজনতার ভরসা আপাতত সরকারি বাস, অ্যাপ-ক্যাব আর ট্যাক্সিই।
তবে রাস্তায় বেরোলে জনতার যাতায়াতে অসুবিধা হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার। কলকাতায় গত সপ্তাহে চালু হওয়া ১৫টি রুটের প্রতিটিতে ১৬টি বাস নামাচ্ছে রাজ্য পরিবহণ নিগম। ওই সব রুটে সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আধ ঘণ্টা অন্তর বাস চলবে।
পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রবিবার বলেন, ‘‘কলকাতায় ১৫টি রুটে আধ ঘণ্টা অন্তর বাস পাওয়া যাবে। হলুদ ট্যাক্সিও মিলবে। অ্যাপ-ক্যাবও পাওয়া যাবে।’’ প্রশাসনিক সূত্রের খবর, এটা অতিমারির সময়। সেই জন্য বিষয়টি পরিবহণ দফতরের অধীন হলেও একক ভাবে তারা কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরে আলোচনার পরে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে। আলোচ্যের তালিকায় ফেরি সার্ভিস-সহ পরিবহণের বিভিন্ন বিষয় রয়েছে।
কলকাতায় স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিদিন গড়ে ৬৫০-৭০০ সরকারি বাস রাস্তায় নামে। আর কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া এবং হুগলির একাংশ মিলিয়ে কলকাতায় কমবেশি ২০০টি রুটে প্রায় ৬০০০ বেসরকারি বাস চলে। কমবেশি ৫০টি মিনিবাসের রুটে চলে হাজার দুয়েক মিনিবাস। বেসরকারি বাসের মালিকদের বক্তব্য, লকডাউন পর্বে যাত্রী তোলার ক্ষেত্রে সংখ্যাগত বিধিনিষেধ জারি করেছে সরকার। অফিসকাছারি ও স্কুল-কলেজ না-খোলায় রাস্তায় পর্যাপ্ত যাত্রী না-পাওয়ার আশঙ্কা তাঁদের ভাবাচ্ছে। এই অবস্থায় খরচের ভারসাম্য রাখতেই তাঁরা ভাড়া বাড়ানোর পক্ষপাতী।
উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণের বেশির ভাগ বাসকেই ভিন্ রাজ্য থেকে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরানোর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে যেতে হচ্ছে অন্য রাজ্যেও। ফলে জেলায় পূর্ণ শক্তিতে সরকারি বাস নামানোর ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। তবে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ পরিবহণ নিগম বিভিন্ন আন্তর্জেলা রুটে পরিষেবা শুরু করার প্রস্তুতি চালাচ্ছে।
বাস-মালিকদের বিভিন্ন সংগঠনের তরফে তপন বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রদীপ নারায়ণ বসু ও রাহুল চট্টোপাধ্যায় জানান, মালিক ও কর্মীদের আর্থিক দুরবস্থার কথা ভেবে আলোচনার পথে এগোতে চান তাঁরা। বাস-মালিকদের একাংশ মনে করছেন, যাত্রী নিয়ে আশঙ্কা থাকলেও তড়িঘড়ি প্রস্তাবিত ভাড়া ঘোষণা করতে যাওয়ায় আসল উদ্দেশ্য ধাক্কা খেয়েছে। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে সরকারের হাতে পারমিট বাতিল করা ছাড়াও বাস অধিগ্রহণ করে চালানোর রাস্তা খোলা আছে।
